Sunday, October 12, 2014

তরুকথা: আশশেওড়া / দাতন / দাঁতমাজন / মটকিলা / বনজামির / কওয়াটুটি /মটমটি_Glycosmis pentaophylla

আশশেওড়া / দাতন
* বৈজ্ঞানিক নাম Glycosmis pentaophylla.
* অন্যান্য নাম:আশশেওড়া, দাতন/দাঁতমাজন, মটকিলা ,বনজামির,কওয়াটুটি, মটমটি।
* ইংরেজি নাম Rum berry, toothbrush Plant, Motar tree.
* বৈজ্ঞানিক নাম Glycosmis pentophylla.
* বাংলা নাম:আশশেওড়া, দাতন, মটকিলা।
* ইংরেজি নাম Rum berry.
আশশেওড়া গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। বাংলাদেশের সর্বত্র এদের দেখা মেলে। যেকোনো পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেয়াভ অসাফধারণ ক্ষমতা আছে এদের। পথের দু’ধারে, ফসল-ক্ষেতের আইলে-বেড়ায়, বাড়ির কাঁনাচে, পোড়ো বাড়ির ইটের খাঁজে, নদী-খাল বা পুকুর পাড়ে, বাগানে, বাঁছড়ায়, ঘোন ঝোপের আড়ালে-- কোথাও এদের বেড় উঠতে বাধা নেই। বালাদেশের যেসব উদ্ভিদের পাতা দিয়ে বাঁশি তৈরি হয়, এর মধ্যে আশশেওড়ার বাঁশি উৎকৃষ্ট।আশশেওড়ার ফুল খুব ছোট। ফুলের রং সবুজাভাব সাদা। আশশেওড়া ফুল হালকা মিষ্টি গন্ধ যুক্ত।আশশেওড়ার ফল সবুজ রঙের। মটর দানার চেয়ে সামান্য বড়। এক ঝোকায় ২০-৫০ পর্যন্ত ফল থাকে। কাঁচা ফুলে রং সবুজ।পাকা ফলের রং গাঢ় গোলাপি। গেলাকার। ফল রসাল। বেশ মিষ্টি। সামান্য তিতাভাব আছে। পাখি ও শিশুদের প্রিয় ফল। ফলের ভেতর দ্বিবীজ পত্রি গোলাকার বিঁচি থাকে।
শশেওড়া একবর্ষজীবি নয়। বেশ কয়েক বছর বাঁচে। তবে সেটা ৫-৭ বছর পর্যন্ত। পানি পেলে সারা বছর জন্মায়। সারা বছর ফুল-ফল দেয়।
(ছবি: শম্ভুগঞ্জ, ময়মনসিংহ
বর্ণনা : Abdul Gaffar Rony-এর একটি পোস্ট থেকে সংগৃহীত))
ছবি- Botany.bd /মৌলি খান
আশশেওড়া গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। বাংলাদেশের সর্বত্র এদের দেখা মেলে।  বালাদেশের যেসব উদ্ভিদের পাতা দিয়ে বাঁশি তৈরি হয়, এর মধ্যে আশশেওড়ার বাঁশি উৎকৃষ্ট।আশশেওড়ার ফুল খুব ছোট। ফুলের রং সবুজাভাব সাদা। আশশেওড়া ফুল হালকা মিষ্টি গন্ধ যুক্ত।আশশেওড়ার ফল সবুজ রঙের। মটর দানার চেয়ে সামান্য বড়। এক ঝোকায় ২০-৫০ পর্যন্ত ফল থাকে। কাঁচা ফুলে রং সবুজ।পাকা ফলের রং গাঢ় গোলাপি। গেলাকার। ফল রসাল। বেশ মিষ্টি। সামান্য তিতাভাব আছে। পাখি ও শিশুদের প্রিয় ফল। ফলের ভেতর দ্বিবীজ পত্রি গোলাকার বিঁচি থাকে। আশশেওড়া বেশ কয়েক বছর বাঁচে। তবে সেটা ৫-৭ বছর পর্যন্ত। পানি পেলে সারা বছর জন্মায়। সারা বছর ফুল-ফল দেয়।
(ছবি: Botany.bd এবং মূল লেখা: Abdul Gaffar Rony)

Mimosa rubicaulis _ শিয়াকাঁটা / কুচিকাঁটা / বড় লজ্জাবতী / গোত্র- টাচ মি নট

Mimosa rubicaulis
Family: Fabaceae , subfamily Mimosoideae


ইট ইজ নট.. ‘টাচ মি নট’ ?
-------------------------
শেরপুর জেলার ‘সন্ধ্যাকুড়া-মধুটিলা’ পথে এক ব্রীজের উপর থেকে চোখ পড়লো এক পুষ্পিত গাছে। স্থানীয় লোকজন এর নাম বললো ‘তেওরা কাঁটা’.. এর প্রমিত বাংলা নাম- শিয়াকাঁটা/ কুচিকাঁটা/ বড় লজ্জাবতী ইত্যাদি। কণ্টকিত এ গাছটি গুল্ম স্বভাবের। কাণ্ডে এবং পাতায় প্রচূর কাঁটা থাকে। থোকায় থোকায় ফোটা এর ফুলগুলো ছোট লজ্জাবতী ফুলের মতই। এর পুষ্পমঞ্জরি দুই রঙের (pink & white) । জুন মাস থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়ে অক্টোবরে শেষ। এর ফলগুলো চ্যাপ্টা, বাঁকা-লম্বাটে। লজ্জাবতীকে বলা হয় ‘টাচ মি নট’, এর পাতায় ‘নিকটিন্যাস্টিক চলন (স্পর্শ করলে বুঁজে যায়) দেখা যায় । কিন্তু এই গাছটির পাতা স্পর্শ করলেও বুঁজে যায় না তাই আমার একবন্ধু বলে উঠলো-- ইট ইজ নট ‘টাচ মি নট’ । প্রকৃত পক্ষে এটি লজ্জাবতীগোত্রীয় (Mimosaceae =Touch-me-not family)।
(Mimosa rubicaulis-এর একটি শাখা, ছবি- Botany.bd /রাশেদ কারামী)
অন্যান্য নাম: বড় লজ্জাবতী / শিয়াকাঁটা/ কুচিকাঁটা / Himalayan Mimosa
প্রাপ্তিস্থান: বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভূটান, আফগানিস্থান।
বর্ণনা:
১) স্বভাব- কণ্টকিত গুল্ম। (কাণ্ডে এবং পাতায় প্রচূর কাঁটা থাকে।)
২) পাতা-দ্বিপক্ষল যৌগিক। প্রতি পাতায় ৮-১২ জোড়া পিনা এবং প্রত্যেক পিনায় 16-20 জোড়া পিনিউল থাকে। র‌্যাকিস কণ্টকিত। এই গাছটির পাতা স্পর্শ করলেও বুঁজে যায় না।
৩) পুষ্পায়ন- জুন মাস থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়ে অক্টোবরে শেষ।
4) পুষ্প এবং পুষ্পমঞ্জরি- থোকায় থোকায় ফোটা এর ফুলগুলো ছোট লজ্জাবতী ফুলের মতই। পুষ্পবিন্যাস 'হেড (মুণ্ডক)' জাতীয়। হেডগুলো পিঙ্ক বর্ণের তবে বয়স বাড়ার সাথে এগুলো সাদা বর্ণ ধারণ করে, তাই গাছে একই সাথে পিঙ্ক এবং সাদা এই দুই রঙেরপুষ্পমঞ্জরি দেখা যায়।
5) ফল-  এর ফলগুলো চ্যাপ্টা, বাঁকা-লম্বাটে, ৮-13 সে.মি., এতে 4-10টি বীজ থাকে। পরিপক্ক ফল কতগুলো খণ্ডে বিভক্ত হয়, প্রতি খণ্ডে 1টি করে বীজ থাকে।

গুরুত্ব:
১)মূল এবং পাতার ভেষজগুণ আছে।
২) হেজ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
৩) এই গাছ খেকে গানপাউডার তৈরি করা যায়।

তথ্যসূত্র,
ছবি: Botany.bd /রাশেদ কারামী এবং উইকিপিডিয়া)



Saturday, October 11, 2014

Rondeletia odorata _ রনডেলেশিয়া / পানামা গোলাপ / Panama rose



পানামা গোলাপ
-------------------

S.name: Rondeletia odorata
Common name: Panama rose, Fragrant Panama rose, Sweet Smelling Rondeletia.
এই ফুলের সুগন্ধি আর চটকদার রঙের নজর কাড়া বাহার যে কারো মন ভোলাবেই।  সঠিক পরিচর্যার অভাবে গাছটি বেশ হতশ্রী হয়ে যায়। 
(পানামা গোলাপ। ছবি-ইন্টারনেট)

বর্ণনা: চিরসবুজ গুল্ম। সাধারণত এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে, গড়নের দিক থেকে লম্বাটে স্বভাবের। পাতা চার থেকে ছয় সেন্টিমিটার লম্বা, ওপরের পিঠ রোমশ। ছোট ছোট থোকায় সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত ফুল ফোটে। ফুল দেখতে অনেকটা রঙ্গনের মতো, তবে পাপড়ির আগা ভোঁতা ও মাঝখানে একটি হলুদ রঙের ফোঁটা থাকে, পাপড়ির রং লাল। বংশবৃদ্ধি দাবাকলমে।

গাছটি কোথায় দেখতে পাবেন?
জাতীয় উদ্যান, রমনা উদ্যান, নিউ বেইলি রোডের ডাক বিভাগের আবাসিক ভবনগুলোর একটিতে এ গাছ চোখে পড়ে। তবে কারো কারো ব্যক্তিগত বাগানেও থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র: Botany.Bd

Friday, October 3, 2014

আকন্দ / Calotropis procera

আকন্দ
Common name: Crown Flower,
S.name: Calotropis procera

 Family: Asclepiadaceae.
 অতি পরিচিত এই আকন্দ। শহরের বাইরে কোথায় নেই এই উদ্ভিদ। ইদানিং ঢাকা শহরের অনেক বাগানেও এর জায়গা হয়েছে। একে দুই রকমের দেখা যায় ১। বড় আকন্দ ২। ছোট আকন্দ। বড় আকন্দ আবার দুই রঙের হয় হাল্কা বেগুনি আর সাদা। তবে বেগুনিটাই বেশী দেখা যায়। আর ছোট আকন্দ এই দেশে খুব একটা দেখা যায় না। রাজশাহীর চলনবিল এলাকায় এই ছোট আকন্দ দেখা যায়।
(  লেখাঃ টি বি/ বোটানী. বিডি )

Hydrocotyle verticillata / পেনিওয়ার্ট / ওয়টার পেনিওয়ার্ট / ডলার গ্রাস / ডলার ঘাস

Common name: Whorled Marsh-Pennywort
Botanical name:Hydrocotyle verticillata Family: Araliaceae (Aralia family)
Synonyms: Hydrocotyle prolifera, Hydrocotyle triradiata, Hydrocotyle australis ( It is a new report for Bangladesh. Ref. Journal of plant taxonomy)।

এটি Dollar Grass নামেও পরিচিত। অনেকে একে থানকুনি ভেবে ভুল করেন, কারণ- পেনিওয়ার্টের পাতার সাথে থানকুনি পাতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। পেনিওয়ার্ট মূলত একটি বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ তবে কখনো কখনো পুকুর, নদী বা অন্যান্য জলাশয়ের নিকটবর্তী স্থানে জন্মে ম্যাট সৃষ্টি করে, কাজেই বলা যায়- এটি স্থলজ পরিবেশেও জন্মে এবং সফললভাবে বাঁচে এই গাছ ছায়াযুক্ত স্থানে থাকতে ভালবাসেএর কাণ্ড ক্রিপার জাতীয়। পাতা গোলাকার, গাঢ় সবুজ, মোমের প্রলেপ থাকায় চকচকে (leaf color- bright green and waxy.) । পাতার বোঁটা ফলকের  ঠিক মাঝখানে যুক্ত । পাতার কিনারা সামান্য দণ্তর (slightly toothed) । পুুষ্পবিন্যাস আম্বেল। ফুল সবুজাভ-সাদা বর্ণের, উভলিঙ্গিক। ফল- সাইজোকার্প।
# তথ্যসূত্রঃ বোটানী,বিডি
# ছবিঃ মোতাহার হোসেন)





H. verticillata-এর  রিলেটেড প্রজাতি হচ্ছে:  H. umbellata






Mesua ferrea / নাগেশ্বর

নাগেশ্বর
বৈজ্ঞানিক নাম : Mesua ferrea (গোত্র- Calophyllaceae )
ইংরেজি নাম: আয়রন উড ট্রি , Indian rose chestnut, Cobra's saffron ইত্যাদি।
হিন্দি : নাগচম্পা ও নাগকেশর।

----------------------
নাগেশ্বর এক প্রকার শোভাবর্ধক, চিরসবুজ গাছ। এর পাতা ও ফুল উভয়ই সুন্দর। পাপড়ির রঙ দুধ-সাদা ও একটু কোঁকড়ানো। নাগেশ্বর ফুলের পুংকেশরগগুলো সোনালি, যা ফুলের সৌন্দর্যে্ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সব মিলিয়ে এই ফুল বর্ণে-গন্ধে অনন্য। নাগেশ্বর ফুল সবচেয়ে বেশি ফোটে বসন্তকালে। তবে বর্ষায়ও ফুল ফুটতে দেখা যায়। ফুলে সুগন্ধ আছে। পাতাগুলো সরু ও বল্লমাকৃতি। সারা বছর নতুন নতুন পাতা গজানো এই গাছের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পাতার বিন্যাস ঘনবদ্ধ থাকায় গাছটি বেশ ছায়া সুনিবিড়। পিরামিড আকৃতির গঠন, কচিপাতার রংমাখা উচ্ছ্বাস, শুভ্রপুষ্পর স্নিগ্ধ শোভা ইত্যাদি কারণে পথতরু হিসেবে নাগেশ্বর অনন্য। গৃহসজ্জা ও পূজার উপকরণে এ ফুল কাজে লাগে।  ফুল ফুল ভেষজগুণেও অনন্য। সাহিত্যক্ষেত্রেও নাগকেশরের উপমা রয়েছে। যেমন--
লোককথায় আছে:
'নাচেন ভালা সুন্দরী লো , বাঁধেন ভালা চুল,
হেলিয়া দুলিয়া পড়ে যেন, নাগেশ্বরের ফুল।'
*** নাগেশ্বর হলো শ্রীলঙ্কার জাতীয় ফুল। ১৯৮৬ সালে এটিকে জাতীয় ফুল বলে ঘোষণা করা হয়। শ্রীলঙ্কায় নাগেশ্বর গাছ 'না' বৃক্ষ বলে পরিচিত। (মূল লেখাঃ বোটানী,বিডি/ রাশেদ কারামী)
-----------------------------------------------------------
বৈজ্ঞানিক নাম : Mesua ferrea (গোত্র- Calophyllaceae )
ইংরেজি নাম: আয়রন উড ট্রি , Indian rose chestnut, Cobra's saffron ইত্যাদি।
হিন্দি : নাগচম্পা ও নাগকেশর।
-------------------------------------
ছবি লোকেশন-কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,ময়মনসিংহ
তারিখ: ৩-১০-২০১৪

Acacia auriculiformis,সোনাঝুরি/আকাশমণি

Acacia auriculiformis
এই বৃক্ষকে আকাশমণি বা অ্যাকাশি নামেই আমরা বেশি চিনি। দ্রুতবৃদ্ধিসম্পন্ন এই বৃক্ষ রাস্তার দুইপার্শ্বে শোভাবর্ধনকারী অ্যাভিনিউ ট্রি (tree alley) হিসেবে লাগানো হয়। কান্তাবর্ণা ঝুলন্ত মঞ্জরির শ্রীতে মুগ্ধ রবীন্দ্রনাথ(?) আবার এর নাম দিয়েছিলেন সোনাঝুরি। সত্যিই সুন্দর এর পুষ্পমঞ্জরি। আর এর পাতাগুলো কেমন? কেউ দেখেছেন? সত্যি বলতে কি এই গাছের পাতা অনেকেই দেখেন নাই। এই গাছের যেটাকে আমরা অনেকেই পাতা বলি সেটি আসলে পাতা নয়, এটি মূলত পর্ণবৃন্ত। বোটা যখন রূপান্তরিত হয়ে পাতার মত দেখায় তখন তাকে পর্নবৃন্ত বলা হয়। এই গাছটি যখন চারা অবস্থায় থাকে তখন এর যৌগিক পাতা দেখা যায়। পরবর্তীতে এর পাতা ঝরে যায়। বয়স্ক গাছে শুধু চর্মবৎ পর্নবৃন্তই দেখা যায়। এখানে, প্রথম ছবিতে পর্ণবৃন্ত( বোঁটা) ও পুষ্পমঞ্জরি এবং দ্বিতীয় ছবিতে চারা গাছে পাতা দেখানো হয়েছে। ( মূল লেখাঃ বোটানি. বিডি/রাশেদ কারামি)